“ভূত” নামাতে কুড়ি লক্ষ”….ফুল ফুটুক বাংলায় “

 

মদনমোহন সামন্ত , কলকাতা , 11 এপ্রিল : রাজ্য সরকারের ঘাড়ে চেপে বসেছে “ভবিষ্যতের ভূত”! দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় রাজ্য সরকারকে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া অনীক দত্ত পরিচালিত “ভবিষ্যতের ভূত” চলচ্চিত্রটি অবিলম্বে প্রদর্শনের জন্য সব হল মালিকদের কাছে লিখিত জানাতে আদেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এবছর ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পরের দিন থেকে বেআইনিভাবে এতদিন ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ রাখার ফলে প্রযোজক এবং হল মালিকদের যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য রাজ্য সরকারকে কুড়ি লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের আদেশ জরিমানার টাকার অঙ্ক প্রযোজক এবং হল মালিকদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে । আজ সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল রিপোর্ট পেশ করার পর বিচারপতি এই নির্দেশ দেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ছায়াছবিটি প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞা নেই। সমস্ত সিনেমা হলের মালিকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ছবিটির পুনঃপ্রদর্শন শুরু হলে প্রদর্শনস্থলের নিরাপত্তার প্রয়োজনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এছাড়াও পুলিশের যুগ্ম কমিশনার চলচ্চিত্রটি দেখতে চেয়ে আগে যে আদেশ দিয়েছিলেন সেই আদেশটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে সরকার। ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ করার ফলে প্রযোজক পরিচালক কলাকুশলীরা এবং চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরা বারবার পথে নেমেছেন ।

প্রতিবাদী মিছিল করেছেন যে মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, দেবজ্যোতি মিশ্র প্রমূখ শিল্পীরা। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে ছবি প্রদর্শন বন্ধের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন “ভূতের ভবিষ্যৎ” কর্তৃপক্ষ । তার পরিপ্রেক্ষিতে 15 ই মার্চ শীর্ষ আদালত এক আদেশবলে সমস্ত হলে ছবির প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়ার পরেও এ বিষয়ে রাজ্যের টালবাহানা লক্ষ্য করে রাজ্যকে লিখিত জানাতে বলেন। বিচারপতি মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ করার চেষ্টা বাক্ স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের মতই।

খবর পেয়ে আনন্দিত পরিচালক অনীক দত্ত বলেছেন, খুব ভালো খবর। তবে টাকাটা যেন সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা থেকে না যায়। বাক্ স্বাধীনতার জয় হল।