বন্ধ গ্রন্থাগার ও প্রবহমান জনশিক্ষা কেন্দ্র খোলার দাবি উঠলো বিদ্যাসাগরের জন্ম জয়ন্তী উদযাপনের অনুষ্ঠানে

 

সুপ্রকাশ চক্রবর্তী,30 সেপ্টেম্বর,হাওড়া: বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সব সাধারণ গ্রন্থাগারের দরজা প্রতিদিন খুললে তবেই প্রথা বহির্ভূত শিক্ষার প্রসার ঘটানো সম্ভব। ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯, শনিবার উলুবেড়িয়ার বীরশিবপুরে কিশোর সংঘ পাঠাগারে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ সাধারণের গ্রন্থাগার কর্মী সমিতির উলুবেড়িয়া মহকুমা কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় কথাগুলি বলেন বিশিষ্টরা। এদিনের আলোচনার বিষয় ছিল ‘বিদ্যাসাগরের জীবন শিক্ষার আলোকে গ্রন্থাগার আন্দোলন’। পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বি-শত তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে সংগঠনের উদ্যোগে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আলোচনা সভায় আলোচনা করেন বিদ্যাসাগর জন্ম দ্বি-শত উৎসব উদযাপন কমিটির হাওড়া জেলা সভাপতি অধ্যাপক স্মৃতিশ বন্দ্যোপাধ্যায়, উলুবেড়িয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সীরাজ মল্লিক, আয়োজক সংগঠনের হাওড়া জেলা সম্পাদক প্রান্তর ব্যানার্জি, সংগঠনের উলুবেড়িয়া মহকুমা সম্পাদক ও হাওড়া জেলা নেতা শাশ্বত পাড়ুই প্রমুখ।

স্মৃতিশ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিদ্যাসাগরকে নিয়ে সারা বছর ধরে চর্চা করার উদ্দেশ্যে বিদ্যাসাগর জন্ম দ্বি-শত উৎসব উদযাপন কমিটি তৈরি হয়েছে। বিদ্যাসাগরের লিখিত বই ও বিদ্যাসাগরের ওপর বই নিয়ে চর্চা গড়ে উঠুক। ধর্মান্ধতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে।
সীরাজ মল্লিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, সমস্ত ধর্মের মূল কথাই হল মানব ধর্ম। মানুষকে আঘাত করে এমন কোনো কাজকে কোনো ধর্মই স্বীকৃতি দেয় না। সভ্য দেশে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে। আবার তারাই বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করছে। এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না। বিদ্যাসাগরের জীবনের শিক্ষাই মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠে শ্রেণী বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এর শিক্ষা।
প্রান্তর ব্যানার্জি গ্রন্থাগার ব্যবস্থার সংকটের কথা তুলে ধরেন তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলেন, হাওড়া জেলাতে ২৫ টি গ্রন্থাগার বন্ধ রয়েছে।
শাশ্বত পাড়ুই তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন কিভাবে প্রবাহমান শিক্ষাকে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রন্থাগারগুলি মানুষকে বই মুখী করার কাজ করে। সাধারণ গ্রন্থাগারগুলিতে নিয়োগ বন্ধ রেখে গ্রন্থাগারের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হাওড়া জেলাতে ২৫টি গ্রন্থাগার ইতিমধ্যে কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে। অন্যান্য গ্রন্থাগারগুলি ধুঁকছে। বিদ্যাসাগরের প্রথা বহির্ভূত শিক্ষার ভাবনাকে প্রসারিত করতে সকল গ্রন্থাগারের দরজা খোলা রাখতে কর্মী নিয়োগ প্রয়োজন। প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রন্থাগারকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারলে বিদ্যাসাগরের চিন্তার প্রসার কি করে হবে! তাই বিদ্যাসাগর জন্ম দ্বি-শত উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে যেখানে যেখানে কর্মসূচী হবে সেখানে বন্সাধ গ্রন্থাগার খোলার দাবিতে আওয়াজ মুখরিত হোক। পাশাপাশি সমসাত বন্ধ হয়ে যাওয়া জনশিক্ষা কেন্দ্রগুলি খোলার দাবিতেও সরব হতে হবে। বিদ্যাসাগরের জীবন শিক্ষার আলোকে সমস্ত প্রগতির শক্তিকে সমবেত করে অগ্রসর হতে হবে। তবেই হবে বিদ্যাসাগরের জন্ম জয়ন্তী পালনের সার্থকতা।