এক মণ্ডপে কালী আর দুর্গাপুজো অষ্টমীর দিনে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,18সেপ্টেম্বর,দত্তপুকুরঃ  মহা অষ্টমীর শেষ আর নবমীর শুরু।এই সন্ধিক্ষনেই দেবী দুর্গা চামুন্ডার রুপ ধারন করে নিধন করেছিলেন মহিষাসুরকে এমনটাই আছে পুরানে। জয়ী
হয়েছিলেন মহিষাসুরমরদিনি।মহিষাসুরের হাত।থেকে স্বর্গের দেবতাদের রক্ষা করেছিলেন দশভুজা। চামুণ্ডা  কালীরই আর এক রুপ।তাই যে মন্ডপে দুর্গা পুজো হয়,সেখানে কালি পুজো করতে হয়।এর জন্য অমাবস্যার তিথির প্রয়োজন নেই। সাধারনত পারিবারিক এবং সার্বজনীন পুজোতেও সাধারনত একই মন্ডপে আলাদা ভাবে কালি পুজো দেখা যায় না।কিন্তু শতাব্দী প্রাচীন দত্তপুকুরেরর মালাকার পরিবারের এই পুজোর অষ্টমীর দিন একই সাথে দুর্গা এবং কালির পুজো হয়ে থাকে। গত ১০০ বছর আগে বাংলাদেশের ফরিদপুরের মালাকার পরিবারের দুর্গাপূজার সুচনা থেকেই এই নিয়মই চলে আসছে একই সাথে দুই দেবির আরাধনা।মালাকার বংশের তৃতীয় পুরুষ ব্রজগোপাল মালাকার আজও দত্তপুকুরের নন্দনপল্লির নিজের বাড়িতেই অষ্টমীর রাতে দুর্গাপূজা এবং কালী পুজো করে আসছেন বংশ পরম্পরায়।কালী পুজো শেষ হতেই নবমীর সুর্য ওঠার আগেই কালি মুর্তির বিসর্জন দেওয়া হয়।

কৃষ্ণপক্ষের মহালয়ার দিনেই দেবি দুর্গা এবং কালির মুর্তি বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়।এটাই মালাকার পরিবারের পারিবারিক নিয়ম।বাড়িতে রেখেই দুটি প্রতিমা সজ্জার বাকী কাজ শেষ করা হয়ে থাকে। এর পর পঞ্চমির ঘট পুজো থেকে ষষ্ঠীর বোধন,সপ্তমীতে কলা বৌ পুজো সহ অষ্টমীর সন্ধিপুজো পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে শেষ হওয়ার পর শুরু হয় কালি পুজোর তোড়জোড়।দুর্গা আর কালি মুর্তি এক সাথে আনা হলেও কালি মুর্তি রাখা থাকে বাড়ির ঠাকুর ঘরেই।সন্ধিপুজো শেষ হতেই একই মন্ডপে আনা হয় কালি মুর্তিকে।দেবি দুর্গা থাকে পশ্চিম দিকে মুখ করে।আর কালি মুর্তিকে রাখা হয় দক্ষিন মুখি করে।একই মন্ডপে চলে দুই দেবির পুজো। কালি পুজো শেষ হতে হতে রাত প্রায় শেষ হয়ে যায়।নবমীর ভোরের অালো ফোটার আগেই মালাকার পরিবারের পারিবারিক পুকুরেই বিসর্জন হয়ে যায় কালি ঠাকুরের।মালাকার পরিবারের ১০০ বছরের প্রাচীন এই দুর্গাপূজায় কোন বলি দেওয়া হয় না।এই পুজো ঘিরে স্থানীয়দের উৎসাহ থাকে নজরকাড়া। নবমীর দিনে স্থানীয়দের নিমন্ত্রন থাকে ব্রজগোপাল মালাকারের বাড়িতে।মিলনের উৎসব চলে পারিবারিক দুর্গাপূজাকে ঘিরে।

মালাকার বংশের তৃতীয় পুরুষ ব্যাবসায়ী ব্রজগোপাল মালাকার বলেন, বাংলাদেশের ফরিদপুরে বাবা ঠাকুরদারা অষ্টমীর দিন একই মন্ডপে দুর্গা আর কালির পুজো শুরু করেছিলেন।সেই থেকে একই নিয়মের ধারা অব্যাহত আছে।ব্রজগোপালের স্ত্রী রিতা মালাকার বলেন আমরা বর্তমানে চার জন মাত্র সদস্য আছি পরিবারে।দুর্গাপূজার করার ক্ষেত্রে লোকবলের একটা সমস্যা তৈরী হয় ঠিকই।কিন্তু মায়ের উচ্ছেয় সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে।পারিবারিক পুজোয় দূর দুরান্ত থেকে অনেক আত্মিয় স্বজনরাই আসেন।এলাকার মানুষের উপস্থিতি থাকে।পুজোর কটা দিন বেশ হৈ হৈ করে কেটে যায়।অষ্টমীর দিনে এক সাথে এক মন্ডপে দুর্গা আর কালির পুজো এই তল্লাটে কোথাও হয় না।