জেলায় একমাত্র সাঁইথিয়া পুরসভার উদ্যোগে হল মেশিন দিয়ে মায়ের ভাসান

 

অনির্বাণ সেন,8 অক্টোবর,সাঁইথিয়াঃ শুরু হয়েছিল গতবছর থেকেই। এবছর পেলো তার পরিপূর্ণ রূপায়ন। বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া পৌরসভা জেলার অন্য পৌরসভা গুলিথেকে পরিসেবার নিরিখে এগিয়ে আছে অনেকটাই। পুরপ্রধান হিসেবে বিপ্লব দত্ত কার্যভার নেওয়ার পরথেকেই সাঁইথিয়া শহর সাজছে অন্যরূপে। এলাকার বসিন্দারা পেয়েছেন চওড়া পথ। কমেছে দূষণের হার। সাথে প্লাস্টিকের ব্যবহারও।

একসময় বাড়ির পুজো থেকে সার্ব্বজনীন পুজোর কর্তারা সাঁইথিয়া ময়ূরাক্ষী নদীতে মায়ের প্রতিমা ভাসান দিতো। দিনের পর দিন সেই নদীতে থাকা কাঠামোগুলোতে থাকা খড়, বাঁশ আস্তে আস্তে পচে নদীর জলে মিশতে থাকত। নদীতে ছড়াতো দূষন। আর তা রুখতেই পুরসভার সবাইকে নিয়ে এগিয়ে এলেন সাঁইথিয়া পুরসভার পুরপ্রধান বিপ্লব দত্ত। গত বছর থেকেই শুরু করলেন হাইড্রা মেশিন দিয়ে মায়ের প্রতিমা বিসর্জন।

তাঁর কথায় ” আসলে নদীতে দিনের পর দিন কাঠামো পরে থাকার করণে নদীর জল দূষিত হতো। আমরা পুরসভা থেকে উদ্যোগ নিয়ে গতবার থেকেই হাইড্রা মেশিন দিয়ে মায়ের প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শুরু করেছি। পুরসভার ২০ জন কর্মী নদীর জলে রয়েছে। হাইড্রা মেশিনে মায়ের প্রতিমা বেঁধে নিয়্ব প্রথামত মেশিন দিয়ে নদীর হলে মাকে সাতপাক ঘুরিয়ে তারপর মেশিনের সাহায্যেই মায়ের বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করছি। এমনিতেই পুজোর আগে প্রায় ফি বছরই নদীতে জল ছাড়া হয়ে থাকে। ফলত নদীতে বিভিন্ন জায়গাই নানান বিপদ সম্ভবনা একটা থেকেই যায়। এভাবে মেশিনের সাহায্যে বিসর্জন করাতে পুজোর উদ্যোগক্তাদেরও অনেক সুবিধা হচ্ছে। তাদেরও আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নেমে প্রতিমা বিসর্জন করতে হচ্ছে না। আর বিসর্জন করার কিছু পরেই ঐ হাইড্রা মেশিন দিয়েই প্রতিমার কাঠামোগুলো তুলে এক জায়গাই জড়ো করে রাখা হচ্ছে। যাদের ইচ্ছা হচ্ছে তার পরে কাঠামো তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। আর যারা প্রতিমার কাঠামো নিয়ে যাবেন না, সেই সব কাঠামোগুলো পুরসভা থেকেই পরে নদীর ধার থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র রাখা হবে”।

অনান্য এলাকা বাসির মতো জয়ন্ত ঘোষ, পূরবী সরকাররা পুরসভার এই উদ্যগে খুবই খুশি। তাঁরা বললেন “এতোদিনে একজন মানব দরদী পুরপিতা পেলাম আমরা। উনার এলাকার বাসিন্দা হয়ে নিজেদের গর্ববোধ হচ্ছে”।

আর বিভিন্নক্লাবের সদস্য থেকে বাড়ির পুজোর কর্তারা একসুরে বলছেন “এবার থেকে আর মায়ের ভাসান নিয়ে কোনো চিন্তা রইল না”।