বাম ছাত্র সংগঠনগুলির নবান্ন অভিযানে মল্লিক ফটকে ধুন্ধুমার, পুলিশের ঘায়ে আহত বহু ছাত্র-ছাত্রীসহ গণমাধ্যমকর্মীরা

 

মদনমোহন সামন্ত,13 সেপ্টেম্বর,কলকাতা : কর্মসংস্থান, বেকার ভাতা প্রদান এবং শিক্ষার খরচ কমানোর দাবিতে বারোটি বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযান গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছিল সিঙ্গুর বুড়োশান্তি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে। আজ শুক্রবার দুপুরে তারা হাওড়া স্টেশনের কাছে রেল মিউজিয়াম সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় নবান্ন’র লক্ষ্যে। বঙ্কিম সেতু, এম জি রোড হয়ে মল্লিক ফটক-এর দিক দিয়ে এগোচ্ছিল তাদের মিছিল। ছিল কড়া পুলিশি পাহারা। তাদের অভ্যর্থনার জন্য ব্যবস্থা ছিল জলকামান, রোবোকপ, কাঁদানে গ্যাস, লাঠি। সেই সঙ্গে মিছিলের গতিপ্রকৃতি বুঝে নেওয়ার জন্য আকাশপথে ব্যবহার করা হচ্ছিল ড্রোন। মল্লিক ফটক এলাকার বঙ্গবাসী রোডেই পুলিশ এবং মিছিলকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আহত হন মিছিলকারী নেতৃবৃন্দসহ বহু ছাত্র-ছাত্রী। পুলিশ চড়াও হয়েছে এমনকি মিছিল কভার করতে আসা সাংবাদিক এবং আলোকচিত্রীদের উপরেও। গণমাধ্যমের কর্মীদের উপর নেমে এসেছে পুলিশী আক্রমণ। আহত হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক। ভেঙ্গেছে বেশ কয়েকজন চিত্র সাংবাদিকের ক্যামেরা। গোটা আগস্ট মাস ধরে সিঙ্গুরের বেড়াবেড়ি, বাজেমেলিয়া, গোপালনগর প্রভৃতি গ্রামে নিজেরা ঘুরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই সর্মথকরা। বিভিন্ন বিষয়ে জনমত সংগ্রহ করেছেন। সমীক্ষার ফলাফল এবং চাকরিপ্রার্থীদের প্রতীকী আবেদনপত্র নবান্নে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির নবান্ন অভিযান কর্মসূচি। এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআই সহ বারোটি বাম ছাত্র সংগঠনের নবান্নমুখী মিছিল হাওড়ার মল্লিক ফটকে পুলিশের বাধা পেতেই বেধে গেল ধুন্ধুমার। পুলিশ এবং বাম ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধল হাওড়ার মল্লিক ফটকে। গতকাল সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযানের শুরু থেকে পদযাত্রা করে আসছিলেন বাম ছাত্র-ছাত্রীরা। সিঙ্গুর থেকে ডানকুনি 19 কিলোমিটার এসে তারা রাতের বিশ্রাম নেন।

আজ শুক্রবার সকালে তারা জড়ো হন হাওড়া স্টেশনের পাশে রেল মিউজিয়াম সংলগ্ন অঞ্চলে। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীরা জমায়েত হতে থাকেন। বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী, রাপিড অ্যাকশন ফোর্স , জলকামান, ব্যারিকেড সহ তাদের প্রতিরোধ করে নবান্ন অভিযান আটকানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। বাম ছাত্র-ছাত্রীদের দলীয় নেতাদের সঙ্গে বারেবারে পুলিশ আধিকারিকরা আলোচনা করে জানতে চান তারা কোন পথে নবান্ন অভিযান করবেন। বঙ্কিম সেতু, এমজি রোড হয়ে নাকি হাওড়া ফোরশোর রোড হয়ে। নেতৃত্ব আরও জানান, তারা যেহেতু আগে থেকে পুলিশকে জানিয়েছেন বঙ্কিম সেতু হয়ে যাবেন ফোরশোর রড ধরে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। সেইমতো দুপুর একটা নাগাদ সমবেত মিছিল নবান্ন পথে এগোতে থাকে। যে কোন পরিস্থিতির জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে এগোতে থাকেন। মল্লিক ফটকে তাদেরকে এগোতে বাধা দেওয়া হলে তারা সে বাধা টপকাতে যান। তাদের আটকাতে পুলিশ প্রথমে বলপ্রয়োগ করে। এতে করে পুলিশ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি বাধ।

এই সময় লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলে ছাত্র-ছাত্রীদের তরফে অভিযোগ। ছত্রভঙ্গ করার জন্য এরপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান-এর প্রয়োগ করে পুলিশ। মিছিলকারীরা এতে আরও উত্তেজিত হয়। হাতের সামনে ইঁটপাটকেল যা পেয়েছেন তাই পুলিশের প্রতি প্রয়োগ করতে থাকেন। সেই সঙ্গে চেষ্টা করতে থাকেন ব্যারিকেড ভাঙার। ধুন্ধুমার বেধে যায়। এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের অভিযোগ, মিছিলকারীদের ছোঁড়া ইঁটের ঘায়ে তাদেরও অনেকে আহত হয়েছেন। ওদিকে মিছিলকারীদের অভিযোগ, পুলিশের তরফ থেকে ঢিল ছোঁড়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বহু ছাত্র-ছাত্রী আহত হন। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের। ইতিমধ্যে মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন মিছিলকারী ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, তারা যখন ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করছিলেন সেসময় আশেপাশের বাড়িগুলোর ছাদ থেকে তাদের দিকে ইঁটবৃষ্টি করা হয়। তারা জানান এ কাজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেরা। আহত হয়েছেন এসএফআই এবং ডিওয়াইএফআইয়ের নেতৃত্বরা। লাঠির ঘায়ে এবং ঘটনাস্থলে আক্রান্ত রক্তাক্ত ও আহতদের চিকিৎসার জন্য হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।