দু’শো বছরের এঁদো বিদ্যাসাগরে অবগাহন করে নিত্যনতুন আবিষ্কার — যা খোদ ঈশ্বরচন্দ্রেরও অজানা

 

মদনমোহন সামন্ত,26 সেপ্টেম্বর,কলকাতা : গুরুবারে বিদ্যাসাগরে ডুব দিতে পালে পালে মানুষ গড্ডলিকা প্রবাহের মত ছুটছিল ব্রাহ্মমুহুর্ত থেকেই, মানে সকাল না হতেই। জন্ম দ্বিশতবর্ষ বলে কথা! সে কি আর বারবার ফিরে আসবে? কিন্তু কি আশ্চর্য, প্রত্যাবর্তনের পথে বিদ্যাদেবীর বাহন দুধসাদা হাঁসের গা থেকে জল ঝরে যাওয়ার মত সব বিদ্যা মানুষদের আপাদমস্তক ছেড়ে পথের ধূলায় গড়াগড়ি খেয়ে কাদা মাখা হয়ে লুটাচ্ছে দেখা গেল। সুপ্রভাত থেকে শুভ রাত্রি পর্যন্ত আদেখলাপনারা একটা অক্ষরও পেটে বা মগজে ধরে রাখার প্রয়াস করল না। তাঁর সম্পর্কে জানল না। উপরন্তু বলল, পড়াশোনা করে যে, গাড়ি চাপা পড়ে সে! তার উপরে সিলিপ অফ টাং হয়ে ঈশ্বরচন্দ্রের বাস্তুভিটেতে দাঁড়িয়ে হেড দিদিমণি জানালেন, মাইলফলক বিদ্যাসাগরের আবিষ্কার! বটেই তো! ইংরেজি সংখ্যা শিখতে ঈশ্বরচন্দ্র বাবার সঙ্গে কলকাতা আসার পথে ঝোপঝাড়-বাদাবন থেকে মাইলফলকগুলো খুঁজেপেতে বের না করলে কার দায় পড়েছিল ওগুলোকে আবিষ্কার করার! আর সেই খুশীতে বীরসিংহ গ্রাম হবে পর্যটন কেন্দ্র! বাড়ি, ঘর, হোটেল, ধাবা, লালপানি, নীলপরী, গাড়িঘোড়া, পথঘাট — উন্নয়ন! গুগলের যুগে হে, ঈশ্বরচন্দ্র! তোমার একটা ট্যাচু তো থাকবেই। আর কী চাই! বাকিটা এযুগের অবতারদের জন্য থাক না! দেখ পন্ডিত! এখানে কোনও স্কুল কলেজ গড়ার কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই কারণ কেউ চায় না অন্য কেউ এসে তোমার সাগরকে গোষ্পদে পরিণত করুক। তা, বেশ। বিদ্যাসাগরের রাজ্যের লোক হয়ে আমাদের শিক্ষার উৎকর্ষ যে কোন শিখর ছুঁতে পারে তা প্রমাণে আবার আগে কে বা প্রাণ করিবেক দান-এর মত প্রতিযোগিতা।

মাইলফলক আবিষ্কারের কথা একজন জানাতেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সাংসদ মন্ত্রী বা কম যাবেন কেন? এক সে বঢ়কর এক! তিনি যেই না পেথ্থম জানালেন, বিধবা বিবাহ প্রচলন করেছিলেন বিদ্যাসাগর, ব্যস! আর যায় কোথা? রাজ্যজুড়ে অশিক্ষিতের দল হুক্কাহুয়া,এ ক্যা হওয়া জুড়ে দিলে গা! পড়াশোনার ধার না ধারলে যা হয়! তোরা কি জানিস, বিদ্যাসাগর তাঁর আপন পুত্রের বিবাহ দিয়াছিলেন বিধবা মহিলার সঙ্গে! তাহলে হল না কি বিধবা বিবাহ তাঁর প্রচলন করা! যিনি এনসিআর, কেজিবি ইত্যাদির ফুলফর্ম অবলীলায় বলতে পারেন সেই মন্ত্রীর কাছে কশুরে যৈ বিদ্যাসাগর এমন কি আর। এখানেই শেষ নয়, “এষণা” করা এক “গো” তো এমন বক্তিমের দাবিদার যে, পড়াশোনাতে ডুবে থাকা বালক ঈশ্বরচন্দ্র নাকি গাড়ি চাপা পড়ার আশঙ্কাতেই বীরসিংহ গ্রাম থেকে বাবার সঙ্গে পদব্রজে কলকাতা যাতায়াত করত। তেনার দুঃখ তেনার গোচোনাপত্র কেউ গ্রহণ করল না কেবলমাত্র বীরসিংহ থেকে কলকাতা আর কলকাতা থেকে বীরসিংহ যাতায়াতে কত সময় লাগত সে পরিসংখ্যানের উল্লেখ সেখানে না থাকাতে! ফুটনোটে অবশ্য এ প্রশ্নও নাকি তেনাকে অফ দ্য রিকর্ড করা হয়েছে যে পিতাপুত্র পথে খেতেন কি, রাতে আশ্রয় নিতেন কোথায়? বলাই বাহুল্য, সেসবের জবাব তেনার অজানা। আজকের তারিখে কলকাতা থেকে সাংবাদিক এমনই সব এক্সক্লুসিভ খবর পাঠিয়েছেন, যার এক্স ক্লু ক্লীবত্ব মর্যাদার সঙ্গে ধরে রাখার জন্য খবরটা পাঁচকান করছি না। মিডিয়াতে দিচ্ছি না। সাধু, সাবধান! একে তো দিনকয়েক আগে অর্ধেক ঈশ্বরচন্দ্র মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে কী কেলেঙ্কারিয়াস কান্ড ঘটে গিয়েছিল। তার উপর আবার এই বয়সে তাঁকে নিয়ে তাঁর নিজেরই অজানা নিত্যনতুন তথ্য ভেসে উঠলে তিনি না আবার ভেন্টিলেটরেই ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে ভিরমি খান। সামনে পুজো।